April 9, 2026, 10:10 am

সংবাদ শিরোনাম
রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

রাজধানীতে জয়নুল উৎসব

রাজধানীতে জয়নুল উৎসব

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

mostbet

রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী জয়নুল উৎসব শুরু হয়েছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০৩তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এই উৎসবের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। গতকাল শুক্রবার চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় দুইদিন ব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উৎসবের পাশাপাশি এ অনুষ্ঠানে রয়েছে পটের গান, পালা-পার্বন শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, সঙ্গীত ও নৃত্য, জয়নুল মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তকে উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে জয়নুল মেলা। এ মেলায় চারুকলার শিক্ষার্থী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চারু ও কারু শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন দ্রব্য নিয়েও দেওয়া হয়েছে স্টল। গতকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের বিখ্যাত ছাপচিত্র শিল্পী সনদ কর, রফিকুন নবী ও মুস্তফা মনোয়ারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল এ- ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিআইএমএসটিইসি) সেক্রেটারি জেনারেল এম সহিদুল ইসলাম, জয়নুল আবেদিনের ছেলে প্রকৌশলী মঈনুল আবেদিনও উপস্থিত ছিলেন। ‘এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিলো দ্বার’ শিরোনামে মাঙ্গলিক সঙ্গীতটি চারুকলার শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় জয়নুল উৎসব। গানের পঙতিমালাগুলো যেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্যই সৃষ্টি। তিনি যেখানে গেছেন, যেভাবে তুলি ধরেছেন একেকটা নতুন ঘরের দ্বার উন্মোচন হয়েছে। কেবল কালো কালিতে শিল্পের এক আশ্চর্য বিকাশ ঘটিয়েছেন তিনি। আধুনিক শিল্পকলায় হয়েছেন পথিকৃৎ। এসময় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের ঘটনা। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে শিল্পের বিকাশে একটি প্রতিষ্ঠান গড়তে চাইলেন। বঙ্গবন্ধু সেদিন তাকে এখনকার চারুকলা ইনস্টিটিউটের জায়গাটি দিলেন। আর বললেন, আপনি যে ঘরে থাকবেন, সেখানে আমার জন্যও একটি খাট পেতে রাখবেন। রাজনীতি করতে করতে যখন ক্লান্ত হয়ে যাবো, তখন এসে আপনার কাছে থাকবো। আপনার ঘরে ঘুমাবো। একবার বঙ্গবন্ধুকে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। তিনি আয়োজকদের বললেন-আমি তো সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষ নই। বুঝিও না। তাই যিনি এ বিষয়ে ভালো বোঝেন তাকে প্রধান অতিথি করো। আয়োজকরা অনেক জোরাজুরি করার পর তিনি বললেন-আচ্ছা যাবো। তবে সেখানে শিল্পী জয়নুল আবেদিন, বিজ্ঞানী মতিন চৌধুরী আর কবি জসিম উদ্দীনকে আনতে হবে। এটা ৬৬ সালের কথা। তখন চারু ও কলা শিল্প মহাবিদ্যালয় ছিল আজকের চারুকলা। তখন একদল ‘ভিন্নধর্মী’ শিক্ষকও ছিলেন। শিক্ষার্থীরা বসন্তবরণ উৎসব করবে শুনেই তারা বলছিলেন-এটা বেহাল্লাপনা হচ্ছে। কিন্তু জয়নুল আবেদিন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে বলেছিলেন, তারা যা বলে বলুক, তোমরা চালিয়ে যাও। সেবারই প্রথম বসন্তবরণ উৎসব হয় চারুকলায়। শিল্পাচার্য বলতেন, চালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে তো ছবি এঁকেছি, কিন্তু চাল-চলনের দুর্ভিক্ষ নিয়ে ছবি আঁকতে পারিনি। সাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ তাকে এভাবে ভাবাতো। শুধু বাংলাদেশ নয়, কলকাতার শিক্ষার্থীদের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয়। তিনি কলকাতা আর্ট কলেজে শিক্ষক থাকাকালে মাটিতে বসে বসে শুধু আঁকতেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে এসে নিজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়লেন। জয়নুল আবেদিন চলে আসায় কলকাতায় আর্ট অনেক ক্ষতির মুখে পড়ে। চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় আয়োজিত ‘জয়নুল উৎসব-২০১৭’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ভারত-বাংলাদেশের শিল্পীরা এভাবেই শিল্পাচার্যকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। আসাদুজ্জামান নূর বলেন, গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এ বিষয়টার প্রতি খেয়াল করতে হবে। বর্তমানে সরকার এ নিয়ে কাজ করছে। সারাদেশের শিল্পীদের জরিপ করা হচ্ছে। তাদের সবাইকে না পারলেও উঁচু মাপের শিল্পীদের ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০৩ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দু’দিনের উৎসবটি শান্তা মরিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। এবারের ‘জয়নুল উৎসবে’ শিল্পী মুস্তফা মনোয়ার, রফিকুন নবী (রনবী) এবং ভারতের চিত্রকর শ্রী সনদ করকে জয়নুল সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনীতে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার আহমেদ বলেন, আমরা এই উৎসবে এমন গুণী শিল্পীদের সম্মাননা দিয়ে থাকি যারা একইসাথে শিল্প ও শিক্ষা কার্যক্রমকে সম্প্রসারণে অবদান রেখেছেন। অনুষ্ঠানে জয়নুল সম্মাননাপ্রাপ্ত শিল্পীদের ক্রেস্ট, মানপত্র এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথিরা। এবার সম্মাননা পাওয়া তিনজনের মধ্যে ভারতের প্রখ্যাত চিত্রকর ও শিক্ষক শ্রী সনদ কর শান্তি নিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন দীর্ঘদিন। ছাপচিত্র এবং পেইন্টিংয়ের পাশাপাশি কাজ করেছেন ভাস্কর্যেও। ১৯৯৫ সালে অবসর নেওয়ার পর আরো পাঁচ বছর শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে আছেন এমিরেটাস অধ্যাপক হিসেবে। ছাপচিত্রে নানা গবেষণা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি অভিনব কিছু পদ্ধতি এবং নতুন নান্দনিক সম্ভাবনার সুযোগ প্রণয়ন করেন। সম্মাননা নিয়ে সনদ কর বলেন, জয়নুল আবেদিন দাওয়াত দিয়েছিলেন বাংলাদেশে আসার জন্য। আসলে ইলিশ-পোলাও খাওয়াবেন বলেছিলেন। কিন্তু যখন এসেছি, তখন তিনি আর নেই। কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করা মুস্তাফা মনোয়ার পূর্ব পাকিস্তানের চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপরে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জনবিভাগ উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং এডুকেশনাল পাপেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন গুণী এই চারু শিল্পী। বাংলাদেশ চারুশিল্প সংসদের নির্বাচিত সভাপতিও তিনি। ‘জয়নুল সম্মাননা’ পাওয়াকে দগুরুত্বপূর্ণ’ অভিহিত মুস্তফা মনোয়ার বলেন, আজকে আমি খুব আনন্দিত। জয়নুল আবেদিনকে দিয়ে তার শেষ ছবিটি আঁকিয়েছেন জানিয়ে তার স্মৃতিচারণ করেন তিনি। নবী হিসেবে পরিচিত শিল্পী রফিকুন নবী ঢাকা আর্ট কলেজের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ১৯৬৪ সালে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ, কাপড় ও খাদ্য সংগ্রহ করেন তিনি। ক্রমান্বয়ে হয়ে উঠেন চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক, অধ্যাপক এবং প্রধান। চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রথম নির্বাচিত ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন রফিকুন নবী। বর্তমানে তিনি অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। রফিকুন নবী একাধারে চিত্রশিল্পী, ছাপচিত্রী এবং কার্টুনিস্ট। ‘টোকাই’ নামে কার্টুন চরিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে কিংবদন্তি শিল্পীর আসনে আসীন তিনি। বক্তব্যে তিনি বলেন, আজকে আমার জন্য এটা (জয়নুল সম্মাননা) একটা বিরাট গর্বের দিন। আমি সরাসরি স্যারের ছাত্র ছিলাম। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ছেলে ময়নুল আবেদিন বলেন, এই অনুষ্ঠানটি ১০ বছর ধরে আয়োজন করা হচ্ছে, প্রতিবছরই আমার মা এখানে আসতেন। কিন্তু এবার অনিবার্য কারণে আসতে পারেননি বলে আমার মন খারাপ। বাবা কারুর প্রসারের জন্য অনেক কিছু করার চিন্তাভাবনা করতেন। কারু শিল্পীদের প্রসারের জন্য কাজ করার ইচ্ছে ছিল তার।” উৎসবের আয়োজকদের তিনি সাধুবাদ জানান। উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনেক পছন্দ করতেন। জয়নুল আবেদিন এবং জাতির জনক মিলে সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘরের জায়গা ঠিক করেন এবং কাজ শুরু করেন। তিনি যে স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেছিলেন তার কোনকিছুই আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। লোকশিল্পীদের তালিকা বানানো এবং লোকশিল্প জাদুঘরের সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। উৎসবের উদ্বোধনীতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমান এবং আজকে জয়নুল সম্মাননা পাওয়া শিল্পীদের মধ্যে কমন জায়গাটি হল- তারা সবাই একই আদর্শ ধারণ করেন। উদারনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধ্যসম্পন্ন সমাজের স্বপ্ন দেখেছেন এরা সবাই।

বরিশালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মবার্ষিকী উদযাপন: বরিশালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় শহরের অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে চারুকলা বরিশাল। এরপর শিল্পাচার্যের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। অশ্বিনী কুমার হলে কর্মসূচির উদ্বোধনী করেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক। তিনি বলেন, জয়নুল আবেদিন আমাদের দেশের চিত্রকলার পথিকৃত। তার আঁকা দুর্ভিক্ষের ছবি আজো অমর হয়ে আছে। তিনি অসংখ্য উত্তরাধিকার তৈরি করেছেন। যাদের হাত ধরেই আমাদের চিত্রকলা সমৃদ্ধ হচ্ছে, এগিয়ে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে আসা শিশু ও কিশোর প্রতি জয়নুল আবেদিনের মতো দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জীবন গড়ার আহ্বান করেন তিনি। চারুকলা বরিশালের সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, চিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, জয়নুল সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই এ কর্মসূচির শেষ হয় বলে জানা যায়।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর